
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় সুয়াবিল ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্তি এবং পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপনের কার্যক্রমের ওপর তিন মাসের জন্য স্থিতাবস্থা (Status Quo) জারি করেছে মহামান্য হাইকোর্ট । বুধবার বিচারপতি আহমেদ ফয়সাল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিনের দ্বৈত ব্যাঞ্চ এ আদেশ জারি করেন। উত্তর ফটিকছড়ির তিন ইউনিয়নের পক্ষে রীটকারীর আইনজীবি সাবেক বিচারপতি এডভোকেট ফসলাল মাহমুদ ফয়জী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ৮ জুলাই নিকারের বৈঠকে দেশের ৫০১ তম উপজেলা ফটিকছড়ি উত্তর অনুমোদন দেয়া হয়।
অনুমোদিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর দেখানো হয় পশ্চিম ভূজপুর মৌজায়। এ ঘোষনার পর উত্তরের তিন ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা গত প্রায় দেড় মাসেরও অধিক সময় ধরে হরতাল অবরোধসহ নানা কর্মসূচী পালন করে আসছিল।
বিষয়টি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে উত্তরের তিন ইউনিয়নের পক্ষে শফিউল আলম এবং দক্ষিনের সুযাবিল ইউনিয়নের পক্ষে এস এম শফিউল আলম পৃথক দুটি রীট পিটিশন দায়ের করেন।
রীট কারীর আইনজীবি সাবেক বিচারপতি এডভোকেট ফয়সাল মাহমুদ ফয়জী বলেন, পৃথক দুটি রীট পিটিশন দায়ের করার পর মহামান্য হাইকোর্ট সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের প্রতি রুল জারি করেন। তিনি বলেন, রুল জারীর পর রুল নিষ্পত্তি না হওয়ার আগেই পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় উত্তর উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন নিশ্চিত করে মহামান্য রাস্ট্রপতির দপ্তর থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিষয়টি রীট কারীর আইনজীবি মহামান্য হাইকোর্টের নজরে আনলে মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ ফয়সাল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিনের দ্বৈত ব্যাঞ্চ এ আদেশ জারি করেন। আদেশে বলা হয় মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগামী তিনমাস উত্তর উপজেলার কার্যালয় পশ্চিম ভূজপুরে স্থাপন এবং দক্ষিনের সুয়াবিলকে উত্তর উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রম স্থিতাবস্থায় থাকবে। তবে উত্তর উপজেলার অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রম যথারীতি চলমান থাকবে।
রীটকারীর পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট জয়নাল আবেদীন, এডভোকেট এহসানুল করিম, সাবেক বিচারপতি এডভোকেট ফয়সাল মাহমুদ ফয়জী, এডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ প্যানেল আইনজীবিগণ।
এ দিকে মহামান্য হাইকোর্টের এ আদেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তরের তিন ইউনিয়নের মানুষের মাঝে প্রাণ চাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে।







