নিজস্ব প্রতিবেদক ।। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চট্টগ্রাম শহরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুব আলম। অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের এক শীর্ষ নেতার ছত্রছায়ায় তিনি এখনো বীর দর্পে চষে বেড়াচ্ছে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের সকল অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন। এর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠন করার পর বিষয়টি আরো জোড়ালো হয়। কিন্তু প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার সুযোগে মাহবুবের মত আওয়ামী যুবলীগের অনেক সিনিয়র নেতা এখনো প্রকাশ্যে অবস্থান করছে বীরদর্পে। আর তাদের এমন নিরাপদে ঘুরে বেড়ানোর পিছনে হাত রয়েছে যুবদল ও বিএনপির মহানগরের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার। এনিয়ে মহানগর বিএনপির অনেক নেতার মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম মহানগর কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুব আলম। বাড়ী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায়।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নগরীর ডবলমুড়িং এলাকায় ছাত্র জনতার উপর হামলা মামলার নেতৃত্বে ছিলেন এই মাহবুব। ২০২৪ সালের ২ আগস্ট ডবলমুড়িং থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যার চেষ্টার মামলায় আসামীর তালিকায় নাম রয়েছে তাঁর।
সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে চলে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই আওয়ামীলীগ নেতা।
পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের একনিষ্ঠ ছিলেন মাহবুব। এ ছাড়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের সাথেও ছিল তাঁর একান্ত ঘনিষ্ঠতা। মাহবুবের ফেসবুক ওয়ালে এসব ঘনিষ্ঠ সময়ের ছবিও রয়েছে। যদিও সরকার পতনের পর তার ফেসবুক প্রোফাইল লক করে রাখা হয়েছে।
একাধিক বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী এমপি ও আওয়ামীলীগ নেতাদের ছত্র ছায়ায় থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে নানা ধরনের অপকর্ম করে বেড়িয়েছিলেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভূমি দখল থেকে শুরু করে নানা কর্মকান্ডে ছিল তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহন। আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা, এমপি মন্ত্রীদের সাথে তাঁর সখ্যতা থাকায় মামলা আর হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খুলতোনা।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যানের সাথেও গভীর সখ্যতা থাকায় মহানগরীর অনেক নিরীহ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরকার পতনের পর বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের ঝটিকা মিছিলের নেপথ্যে ভূমিকা রয়েছে মাহবুবের।
সুত্র জানায় তার নামে জুলাই অভ্যুত্থানের পর একাধিক মামলা হলেও রহস্যজনক কারণে তাকে গ্রেফতার করছে না আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে নানা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত সরকারের সময়ে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী তার হাতে লাঞ্চিত এবং হয়রানির শিকার হলেও বর্তমান সময়ে বিএনপি নেতাদের শেল্টারে এমন প্রকাশ্যে ঘুরাফেরার কারণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বিএনপির সাধারন নেতার্মীদের মাঝে। তারা অবিলম্বে মাহবুবকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন।
জিবি/জেএম/ডেস্ক







