ডেস্ক রিপোর্ট ।। ফটিকছড়ির বাগানবাজারে শরীফ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শরীফ হেয়াকোঁ বাজারের ‘শরীফ কৃষি বিতান এর মালিক এবং দাঁতমারা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের অলিপুর গ্রামের বাসিন্দা।
রোববার সকাল ১১টার দিকে বাগানবাজারের গার্ডের দোকান স্টিল ব্রিজের পাশে শ্মশান সংলগ্ন ধানি জমি থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে রামগড় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছে তাকে কয়েকজন যুবক মিলে বেধড়ক পিটুনি দেয়। তাদের পিটুনি খেয়ে দৌড়ে পুকুরে ঝাঁপ দিলে সেখানেও তাকে ইট পাটকেল মারা হয়। হয়তো বা ইটের আঘাতে তার মৃত্যু হতে পারে। আবার কেউ বলছে শরীফ দীর্ঘদিন ধরে মানষিক রোগে ভূগছিলেন । তার সাথে সব সময় একটি ছুরি থাকতো।
ঘটনার দিন তিনি ছুরি দিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবককে ভয় দেখালে তারা তাকে দৌঁড়ানি দেয়। এতে তিনি পুকুরে পড়ে যায়। তাকে উঠানোর পর তিনি পুকুর পাড়ের পাশে ধান ক্ষেতে অচেতন হয়ে পড়ে যান। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে রামগড় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ধারনা করা হচ্ছে যুবকদের দৌঁড়ানি খেয়ে পুকুরে পড়ার পর ভয়ে তিনি স্ট্রোক করতে পারেন। তবে তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান তার ভাই ইকবাল।
এদিকে তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্য দেখা দেয়ায় মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পঠোনো হয়েছে বলে জানান ভুজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বিপুল চন্দ্র দে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত কোনো কারণে হেয়াকো বাজারের ব্যবসায়ী শরীফের সাথে ‘মুন্সি ড্রাইভার’-এর ছেলেদের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে মুন্সি ড্রাইভারের ছেলেরা এবং স্থানীয় ‘নূর হোসেন’ নামের এক ব্যক্তির মেয়ের জামাই ও কাসেম এর ছেলে সাকিবসহ বেশ কয়েকজন মিলে শরীফকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর শুরু করে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে শরীফ দৌড়ে ধানের জমির পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন।
পুকুরে থাকা অবস্থায়ও হামলাকারীরা উপর থেকে তাকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে যা তার বুকে আঘাত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, পুকুর থেকে শরীফ বারবার আকুতি জানিয়ে বলছিলেন, “ভাই, আমি কিছু করিনি, আমাকে ছেড়ে দিন।
পরবর্তীতে তিনি পুকুর থেকে উঠে প্রাণভয়ে আবারও দৌড় দিলে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে ধানের ক্ষেতের মাঝখানে ধরে ফেলে। সেখানে তাকে পুনরায় মারধর করা হলে তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, ধারনা করা হচ্ছে ইটের আঘাতেই তার মৃত্যু হতে পারে।
উদ্ধারের সময় মরদেহের পাশে একটি হেলমেট, একটি ব্যাগ এবং একটি ছুরি পাওয়া যায়।
ঘটনার সময় এলাকার অনেকেই পুরো ঘটনাটি দেখলেও কেউ মুখ খুলছেনা। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
খবর পেয়ে নিহতের পরিবার রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যায়। নিহতের ভাই ফরিদ জানান, শরীফ দীর্ঘদিন ধরে কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। আজ সকালে তিনি মোটরসাইকেল ছাড়াই শুধু একটি হেলমেট ও ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তারা মৃত্যুর খবর পান।
শরীফের ভাই ব্যবসায়ী ইকবাল জানান, পিুলিশের ফোন পেয়ে তিনি রামগড় হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন তার ভাই শরীফ মৃত। তিনি আরো জানান, শরীফ দীর্ঘদিন ধরে মানষিক রোগে আক্রান্ত। সকালে মোটরসাইকেল ছাড়াই ব্যাগ আর হেলমেট নিয়ে বের হয়ে পড়েন। তার সাথে সব সময় একটি ছুরি থাকতো। মানষিক সমস্যার কারণে সেটি দিয়ে লোকজনকে ভয় দেখাতো। তাকে মারধর করা হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান এ বিষয়ে খবর নিয়ে জানাতে পারবেন। মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে মামলার বিষয়ে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে শরীফকে উদ্ধারকারী স্থানীয় বাসিন্দা ডাক্তার জয়নাল আবেদিন বলেন, পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে বাজারের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম । কিন্তু শরীফ যেদিক থেকে এসেছে আবারো ঔদিকে দৌঁড়াতে থাকে । শারীরিক সক্ষমতার কারণে তাকে ধরে রাখতে পারিনি। আমার হাত থেকে ছুটে দৌঁড়ে শ্মশানের কাছে জমিনে গিয়ে ঢলে পড়ে। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সুমন এবং চৌকিদার ভুলুর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে রামগড় হাসপাতালে নিয়ে যায়।
তিনি জানান, মারধরের বিষয়টি শাকিবের কাছে জানতে চাইলে শাকিব জানান, ছুরি দিয়ে ভয় দেখানোর কারণে তাকে লাঠি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করা হয় বলে স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে ভুজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বিপুল চন্দ্র দে বলেন, বাগান বাজারে শরীফ নামের এক ব্যাক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মৃত ব্যক্তি মানষিক রোগি ছিলেন বলে পারিবারিক সুত্র জানায়। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডেস্ক/জিবি/জেএম







