১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

উপজেলা সদর দপ্তর ইস্যু : অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ৪৮ ঘন্টা হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত

উপজেলা সদর দপ্তর ইস্যু : অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ৪৮ ঘন্টা হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত

ডেস্ক রিপোর্ট ।। চট্টগ্রামের নতুন প্রস্তাবিত “ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা” সদর দপ্তর নারায়নহাট – দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের দাবীতে ৪৮ ঘন্টার হরতাল অবরোধের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে।  সকাল ৬ টা থেকে হরতাল আহবানকারীরা ফেনী খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক  এবং চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি হেয়াকোঁ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। জরুরী সেবা ব্যাতীত অন্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।  হরতাল আহবানকারীরা  বাগানবাজার, হেয়াকোঁ, দাঁতমারা, নারায়নহাট, চিকনছড়া, বালুটিলাসহ বিভিন্ন স্থানে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়। হরতালকে ঘিরে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।  দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর দপ্তর বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, সর্বশেষ গণ শুনানীর প্রস্তাবনা অনুযায়ী নতুন প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর দপ্তর নারায়নহাট দাঁতমারার মধ্যবর্তীস্থানে স্থাপনের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছিল। গনশুনানীর পর সরেজমিন পরিদর্শন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নাগরিক সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে উত্তরের পাঁচটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে নতুন উত্তর উপজেলা সদর নারায়নহাট দাঁতমারার মধ্যবর্তীস্থানে জুজ খোলা মৌজায় স্থাপনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।  কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহলের মাধ্যমে প্রশাসনের গুটি কয়েক কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে দক্ষিনের সুয়াবিলকে সংযুক্ত করে উত্তর উপজেলা সদর দপ্তর ভুজপুরে স্থাপনের জন্য নতুন করে প্রস্তাবনা প্রেরন করেন।  এতে করে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে উত্তরের তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা। পরবর্তীতে বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত মহামান্য হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।   দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের মানুষ প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। তাই জনগণের সুবিধা, সময় ও যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।

তারা বলেন, একটি উপজেলার মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সদর দপ্তর যদি অধিকাংশ মানুষের জন্য দূরবর্তী ও অযৌক্তিক স্থানে করা হয়, তাহলে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাই জনমত, ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার বিষয় বিবেচনায় যৌক্তিক স্থানে সদ্য চুড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

এদিকে ৪৮ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিনে ৩ ইউনিয়নের কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। হরতালের সমর্থনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও তাদের নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে হরতালের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং মহিলারাও হরতালের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসে। তারা বলছেন দাবী আদায় না হলে তারা ঘরে ফিরে যাবেনা।

ডেস্ক/জিবি/জেএম

6 Views

শেয়ার করুন:

Facebook
WhatsApp

সার্চ করুন........