১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস : যুবককে ধরে নিয়ে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট ।। ফটিকছড়ির ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদে এক যুবককে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

নিজ গ্রামের উন্নয়ন কাজ না করার বিষয়ে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পোষ্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের লোকজন এ ঘটনা ঘটায় বলে জানা গেছে।

নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদে গতকাল এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হাসেম (৪৪) উপজেলার পশ্চিম ভুজপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষক। ইউনিয়ন পরিষদে তাকে জোর করে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং মৌখিকভাবে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হাসেম বলেন, আগের দিন তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। এরপর স্থানীয় কয়েকজন তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গিয়ে কান ধরে ওঠবস করান এবং বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে কান ধরে ওঠবস করতে বলা হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে আর এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতিও দিতে বলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করা স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ইব্রাহিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই যুবককে পরিষদে নিয়ে এসে এমন কাজ করেন। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতির কারণে তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, একজন নাগরিককে এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় অন্যঅংশের বাসিন্দারা বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নিয়ে কটূক্তিমূলক ভিডিও প্রচারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ লোকজন ওই যুবককে এনে ক্ষমা চাইতে বলেন এবং মুচলেকা নেন।

এ বিষয়ে ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এস এম শাহজাহান শিপন বলেন, আমি সারা দিন উপজেলা সদরে ব্যস্ত ছিলাম। এলাকায় কী ঘটেছে, তা তখন জানতাম না। পরে শুনেছি, আমাকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় স্থানীয় লোকজন তাকে এনে মুচলেকা নিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আইনের আশ্রয় বা প্রতিকার চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

ডেস্ক/জিবি/জেএম

25 Views

শেয়ার করুন:

Facebook
WhatsApp

সার্চ করুন........