নিজস্ব প্রতিবেদক ।। ফটিকছড়ির দাঁতমারায় হালিমা আক্তার নামে সাড়ে ৩ বছর বয়সী এক শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৯ টার দিকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামের আবদুল আউয়ালের ঘরে আলনার নীচ থেকে হালিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হালিমা একই গ্রামের নাছির উদ্দিনের মেয়ে। শনিবার সকাল ৮ টা থেকে নিখোঁজ ছিল হালিমা। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে।
নিহত হালিমার মা রাশেদা জানান, তাঁর এক ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে হালিমা সকলের ছোট। শনিবার সকাল ৭ টায় তাঁর মেয়ে হালিমা ঘর থেকে খেলতে বের হয়ে যায় । এক ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর মেয়ে ফিরে না আসায় তারা মেয়েকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এর পর বিষয়টি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পুরো গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে আশপাশের সকল জায়গায় খোঁজ করতে থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাদের সন্দেহ বাড়তে থাকে। তিনি জানান, তাদের সামনের বাড়ীর আবদুল আউয়ালের পরিবারের সাথে তাদের কয়েকদিন আগে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে তারা হালিমাকে আটকে রেখেছে কিনা সেই সন্দেহ থেকে গ্রামের লোকজন তাদের ঘরেও তল্লাশি করে। কিন্তু হালিমার কোন সন্দান পায়নি। এর পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। তাদের সন্দেহের রেশ ধরে পুলিশ পুরো বাড়ী ঘিরে রেখে তল্লাশি করে। অবশেষে রাত ৯টার দিকে ঘরের আলনার পিছনে কাপড় মোড়ানো অবস্থায় হালিমার মরদেহ দেখতে পায়। হালিমার শরীরের ব্যাপক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তার মা রাশেদা। তিনি জানান পূর্ব ঝগড়ার জের ধরে তারা তার মেয়েকে হত্যা করেছে। তিনি এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আউয়ালের পরিবারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
এদিকে শিশু কন্যা হালিমার মরদেহ উদ্ধারের পর তার পুরো পরিবারে শোকের মাতম নেমে আসে। আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ সেখানে ভিড়জমান। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আউয়াল,তার মেয়ে আসমা, ছেলে রবিউলকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে ভুজপুর থানাধীন দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) বরকত উল্লাহ জানান, ভিকটিম হালিমা সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল। আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর সন্দেহজনক আবদুল আউয়ালের বাড়ীতে তল্লাশি করি। সেখানে আউয়ালের ঘরে আলনার পিছন থেকে হালিমারর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, ময়না তদন্তের জন্য হালিমার মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে । এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে ।
জিবি/জেএম/ডেস্ক





