৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ফটিকছড়ির বিএনপি নেতা গণি হত্যার ১৫ বছর :  বিচার না পেয়ে হতাশ পরিবার  

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরেও ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন  ফটিকছড়ির বিএনপি নেতা আবদুল গণির পরিবার। ২০১১ সালে হেয়াকোঁ ধর্মপুর এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে জবাই করে হত্যা করা হয় দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সহ-সভাপতি আবদুল গনিকে ।

হত্যাকান্ডের পর ১৫ বছর ধরে মামলা চালালেও এখনো নিস্পত্তি হয়নি বিচারিক কার্য্ক্রম। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সম্পদ দখল, হুমকি-ধমকি ও নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছেন তারা।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট জমা দিলেও এখনো মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, চার্জশিটে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

নিহত বিএনপি নেতা গনির স্ত্রী মেহের খাতুন বলেন, স্বামী হত্যার পর চার সন্তানকে নিয়ে নিরাপত্তার কারণে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। আমার স্বামী বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। কিন্তু তাকে হত্যার পর দীর্ঘ ১৫ বছরে দলের অনেকেই খোঁজ নেয়নি। আল্লাহর ওপর ভরসা করেই সন্তানদের বড় করেছি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ২০১১ সালের ১৪ মে প্রকাশ্য দিবালোকে আবদুল গনিকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অধিকাংশই তৎকালীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

তিনি আরও বলেন, মামলার বেশিরভাগ আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে তাদের সম্পদ দখলে নেয়। ফটিকছড়ির হেয়াকোঁ ও পার্শ্ববর্তী রামগড়ের পাতাছড়া এলাকায় থাকা বেশ কয়েকটি মূল্যবান জায়গা জবরদখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এসব সম্পত্তি উদ্ধারে বাধা দিতে গিয়ে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন তিনি ও তার সন্তানরা।

সে সময় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন নিহত গনির ছেলে শাহীন বলেন, আমার বাবা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। এ কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে হত্যার মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। একদিকে ১৫ বছরেও পিতা হত্যার বিচার হয়নি, অন্যদিকে পিতার কষ্টার্জিত কোটি টাকার সম্পদ থেকেও বঞ্চিত। বর্তমানে হুমকি-ধমকি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই দিন কাটছে আমাদের।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বিচারের আশা জাগলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিট থেকে মূল আসামিদের বাদ দেওয়ায় মামলার পুনঃতদন্ত দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিনেও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া দুঃখজনক। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী তরুণ কিশোর দেব বলেন, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তবে মামলার বাদী কিছুদিন সাক্ষ্য না দেওয়ায় এর অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জহির আজম চৌধুরী বলেন , প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এত করে দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারন মানুষের আস্থা বাড়বে।

ডেস্ক/জিবি/জেএম

251 Views

শেয়ার করুন:

Facebook
WhatsApp

সার্চ করুন........