৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা

ডেস্ক রিপোর্ট ।।

বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের আগে স্বেচ্ছাসেবক দল পুরো সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করেছে ক্ষমতাসীন দলটি। ইতোমধ্যে লবিং তদবির শুরু করে দিয়েছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। ইতোমধ্যে সংগঠনটির নতুন কমিটির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে যে কোনো সময় ঘোষণা করা হবে নতুন কমিটি। কমিটির সুপার ফাইভে কারা স্থান পেতে পারেন, সে বিষয়ে হাইকমান্ড খোঁজখবর নিচ্ছে।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সংগঠনটির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানীকে সভাপতি এবং রাজিব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। এর মধ্যে পরিস্থিতিও বদলেছে। সংগঠনটির সভাপতি এস এম জিলানী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে দুজনের কেউই আগের মতো সংগঠনে সময় দিতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে দেয়া হচ্ছে সংগঠনটির নতুন কমিটি।

সম্প্রতি সময়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। বর্তমান কমিটির যেহেতু মেয়াদ শেষ তাই পুনর্গঠনের বিষয়ে তারা তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় নতুন কমিটি দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন তারেক রহমান।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও ত্যাগ স্বীকারকারী নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে নতুন গতি ফিরবে। একইসঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে দল আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করছেন তারা।

বিগত সময়ে যারা মামলা-হামলা, কারাভোগ ও নির্যাতনের মধ্যেও মাঠে সক্রিয় ছিলেন এমন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন পদপ্রত্যাশীরা।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সরদার মো. নূরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক নূরুল হুদা বাবু, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, কাজী মোক্তার হোসেন, রফিকুল ইসলাম রফিক, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও কাজী রওকুল ইসলাম শ্রাবণের নাম তৃণমূলে বেশ জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোক্তার হোসেন জানান, যারা সংগঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যারা আওয়ামী স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে গতিশীলতা ফিরে আসবে।

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, আওয়ামী শাসন আমলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রায় ৫০টির মতো মামলা দেয়া হয়েছে। এমনকি তাকে বার বার কারাগারে যেতে হয়েছে। দল তাকে সেভাবেই মূল্যায়ন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তিনি।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান জানান, সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমান কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন উপযুক্ত সময় মনে করবেন, তখন নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন। কমিটির বিষয়ে তারেক রহমান যেই সিদ্ধান্ত নিবেন তাতেই আস্থা রাখতে চান তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, দলের কঠিন সময়ে রাজপথে ছিলাম, আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য এবং সাধারণ সম্পাদক প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কাজে তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সে কারণে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে নতুন কমিটি খুবই প্রয়োজন। তাই আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক যেই সিদ্ধান্ত নেবেন তাতে আমার আস্থা রয়েছে।

জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন বলেন, কমিটি গঠন হচ্ছে চলমান একটি প্রক্রিয়া। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কমিটির বিষয়ে উনি যেটা করবেন সেটার প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে এবং আমি ওই সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল। আমার বিশ্বাস অতীতের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে যারা কাজ করেছেন তাদেরকে কমিটিতে রাখলে সংগঠন আরও গতিশীল হবে। তাদেরকে দিয়েই কমিটি গঠন করা হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

নতুন কমিটি প্রসঙ্গে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান বলেন, আমরা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কমিটির বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমাকে এবং সভাপতিকে যেহেতু দল মূল্যায়ন করে এমপি বানিয়েছে। এছাড়া আমাদের কমিটির মেয়াদও যেহেতু শেষ, তাই আমাদের অভিভাবক তারেক রহমানকে বলেছি নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য। আর এ বিষয়ে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান যখন মনে করবেন তখনই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। সুত্র -এনপিবি নিউজ

ডেস্ক/জিবি/জেএম

12 Views

শেয়ার করুন:

Facebook
WhatsApp

সার্চ করুন........